বেল আর স্কুল রিলেটেড কথা। যার শুরু কয়টি ঘন্টার আওয়াজের মধ্য দিয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে আমি বাংলাদেশের এমন যায়গার কথা বলছি। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মাটি কাটা, রিক্সা চালক, চা দোকানী কাউকেই পাওয়া যাবে না যে একদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়নি। প্রাথমিক বিদ্যালয় কমপ্লিট না করে কেউ হাই স্কুল বা কলেজ ইউনিভার্সিটি লেভেল স্পর্শ করতে পারে না। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক বেশি। এই জন্য প্রাথমিক স্তরে শব্দ ভান্ডার আর পড়ালেখার প্রতি চাহিদার ফাউন্ডেশন খুব ভাল থাকা দরকার। তা না হলে ঝরে পড়ার অভিশাপ তাকে বেশি দূর এগুতে দেয় না।
বিদ্যালয় চলাকালীন পূর্ণ নিরবতার ছবি। আমরা এখন বড় হয়েছি। অনেকেরই বিদ্যালয়ের সাথে আজ সম্পর্ক নাই। আবার অনেকে আছি প্রাথমিক বিদ্যালয় অনেক দিন ধরে দেখিই না। হঠাৎ যদি চোখে পড়ে যায় তখন অনেক ভাল লাগে! মনে পড়ে যায় সেই স্কুলে জীবনের কথা। মন চায় আবার সেই ছোট বেলার স্কুলটি ঘুরে আসি! কিন্তু সেই স্যার আর সেই সময়ের শিক্ষাথীরা তো আর সব সময় থাকে না। তাই ইচ্ছাটাকে এখানেই সমাপ্ত করতে হয়। একটু খারাপই লাগে তখন। আমরা স্কুল জীবনে কত কি না করেছি! এগুলো দেখলে আমারও ঐ কথাগুলো মনে পড়ে যায়।
পিছনে বসে সাধারণতঃ কম পাড়া শিশুরা। এদেরকে এক্সট্রা কেয়ার করতে হয়। মাঝে মাঝে ভাবনা আসে, আমিও তো এমন ছিলাম যেমন আমি সারা দিন বিদ্যালয়ে থেকে দেখছি।
এসব দেখে মাঝে মাঝে আমার ছোট বেলার কথা মনে পড়ে যায়। আমিও ভুলে যেতাম। স্যার যেন দেখে না ফেলে সেই জন্য চুপিসারে অন্য জনের থেকে দেখতাম। আফসোসই লাগে তখন। আহা, কি চমৎকার দিন-ই না ছিল সেগুলো!
শিশুদের মন শিশুর মতই। কত শাসন করি তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু অল্প ক্ষণ পরেও তা আর কিছুই মনে থাকে না। শিক্ষকদের কেউ ছূঁটিতে থাকলে তাঁর ক্লাসগুলো উপস্থিত শিক্ষকদের কভার করে নিতে হয়। এক কক্ষে থেকে দুই তিন কক্ষ সামাল দিতে পারি না। তাই মেজিস্ট্রেট সেজে বিদ্যালয়ের বারান্দা দিয়ে মাঝে মাঝে টহল দিই।
বিদ্যালয় সম্পূ্র্ণ নিজের মত করে চলে। খুব শান্ত পরিবেশ বিরাজ করে তখন। কিছু অতি দূরন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের নিস্তার থাকে না। সারাক্ষণ কারো না কারো সাথে ঝামেলা বেঁধেই রাখতে চায়। সামান্য স্থির থাকতে পারি না।
শিশুদের সাথে কাজ করার মজাই আলাদা! তবে কিছু কিছু মজার স্বাদ খুব ভাল করেই পাই এসব অবুঝ শিশুদের কিছু কর্মের মধ্য দিয়ে।
দুই ক্লাসের মাঝখানের সেই দু'এক মিনিটের অপেক্ষায় থাকে অতি দূরন্ত শিশুরা। শিক্ষক ক্লাস থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই ঘটে যায় এলাহী কান্ড। সরকারে দেয়া ফাস্ট এইড বক্স আমাদের সব সময়ই প্রস্তুত রাখতে হয়। তবে বেশি কিছু আমাদেরকে দেয়া হয় না। শুধূ একটি স্যাভলন আর তুলা। আর যা দেয় তা সারা বছর চলেনা। এক প্যাক প্যারাসিটামল, নাপা দু'চারটি আইটেম।
প্রাথমিক চিকিৎসাটা আমাদের খুব আদরে করতে হয়। স্কুলের পুরো সময়টায় শিশুর বাবা-মা'র স্নেহ মমতা থেকে দূরে থাকে। তাই আমাদেরই তাদের বাবা-মা'র ভূমিকা পালন করতে হয়।
আবার আমাদের শিল্পীর তুলিতে ছবি আঁকতে হয়। আমাদের দেখে দেখে শিক্ষার্থীরাও বেশ চমৎকার ছবি আঁকে। আমাদের সাথে শিশুরা একান্ত আপন ভাবে মিশে গিয়ে সেই সময়টা কাটায়। শিশুরা আমাদেরকে খুব কাছের মানুষ ভাবতে শিখে। ভালবাসা শিখে। সবাই মিলেমিশে কাজ করার দ্বারা বন্ধুত্ব করতে শিখে।
চার বছরের একজন শিশুর আঁকা এই ছবিটি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন