নানা বাড়িতে এসে মাহমুদ ও আবিদা খুব খুশী। অনেকদিন পর ওদেরকে পেয়ে নানি মজার মজার রান্না করছেন। অনেক পদ।
সেদিন আবিদা, মাহমুদ ও মামাতো ভাই মামুন উঠোনে খেলছিল। মামুনের বন্ধু রাসেলও সঙ্গে খেলছিল। হঠাৎ কী মনে করে রাসেল উঠোনে রাখা গরম ছাইয়ের গাদায় পা দিল।
ছাইয়ের তলায় তখনও যে অল্প অল্প আগুন ছিল রাসেল তা বুঝতে পারে নি। মুহূর্তেই রাসেল চিৎকার করে উঠল, 'উহ্ পুড়ে গেল, জ্বলে গেল, পুড়ে গেল।'
রান্নাঘর থেকে নানি জিজ্ঞেস করলেন, 'কী হলোরে?'
মামুন বলল, 'রাসেল গরম ছাইয়ে পা দিয়েছে।'
বারান্দা থেকে নানা বললেন, 'সবসময় বলি, ছাই ও কয়লার আগুন পানি দিয়ে নিভিয়ে গাদায় ফেলবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। দেখলে তো, এখন কেমন বিপদ হলো।'
আবিদা রাসেলকে বসিয়ে পায়ে ঠান্ডা পানি ঢালতে লাগল। সে বলব, 'নানি, তুমি যদি ছাইয়ে পানি ঢালতে তাহলে রাসেলের পা এভাবে পুড়তো না।'
আবিদার কথায় নানি একটু লজ্জা পেল।
তখন অনেক রাত। মাহমুদ ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছে। আসমান থেকে নেমে এসেছে একটি পরী। তাকে বলছে, 'আগুন থেকে সাবধান থেকো খোকা। কক্ষনো আগুন নিয়ে খেলবে না।'
স্বপ্নের মধ্যেই মাহমুদ পরীকে জিজ্ঞেস করল, 'পরী আপু কীভাবে আগুন থেকে বিপদ হয়, তা বলবে?'
পরী এক এক করে বলে গেল-
# চুলোর কাছে খেলতে গেলে।
# আগুন নিয়ে খেলতে গেলে।
# কুপির আগুন থেকে।
# গরম জিনিষ ধরলে।
# আগুন জ্বালাতে গেলে।
# আগুন পোহাতে গেলে।
# গরম ছাইয়ে পা দিলে।
# আতশবাজি নিয়ে খেলতে গেলে।
পরী কথা শেষ করল। মাহমুদ তাকে জিজ্ঞেস করল, 'কাপড়ে বা গায়ে আগুন লাগলে আমরা কী করতে পারি?'
পরী বলল, 'তখন একদম দৌড়াবে না। সাথে সাথে মাটিতে শুয়ে পড়বে। আগুন না নেভা পর্যন্ত মাটিতে গড়াগড়ি দেবে। সাহায্যের জন্য চিৎকার করে লোক ডাকবে।'
মাহমুদ আবার জিজ্ঞেস করল, 'পুড়ে গেলে আর কী করব?'
পরী বলল, 'পুড়ে যাওয়া জায়গায় অনেক সময় ধরে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি ঢালবে। সাথে সাথে মা-বাবা বা বড় কাউকে জানাবে। তবে কোনো অবস্থায়ই পোড়া জায়গায় লবণ, ডিম বা অন্য কিছু দেবে না। আর দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ ব্যবহার করবে।'
চলে যাওয়ার আগে পরী আরো বলল, 'বাড়ির সকলকে বলবে, তারা যেন যেখানে-সেখানে গরম ছাই বা কয়লা না ফেলে। এগুলো একটা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলবে। ছাই বা কয়লার আগুন পানি দিয়ে ভালভাবে নিভিয়ে নেবে। কুপি বাতি ব্যবহার করবে না। কারণ কুপি বাতি থেকে কেরোসিন ছড়িয়ে আগুন তাড়াতাড়ি গায়ে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া গরম, তরল খাবার এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে করে শিশুরা সে সবের নাগাল না পায়।'
কথা বলতে বলতে পরী উড়ে গেল। মাহমুদের ঘুম ঘেঙে গেল।
তখন বাইরে ভোর হয়ে এসেছে। জানালা দিয়ে মিষ্টি রোদ ঘরের ভিতর উঁকি দিচ্ছে। সে আড়মোড়া দিয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়ল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন