শিমুল কৃষ্ণচূড়া বকুল ফুলেরা ফুটেছে।
গাছের পুরাতন পাতারা মৃত্যুকে
আলিঙ্গন করে নতুন পাতাদের সুন্দর
বসন্ত প্রদর্শনের সুযোগ দিচ্ছে।
আমি নারকেল গাছে গাছে বসে
ঝিঁঝি পোকারা ডাকছে।
মেহগনি শেওড়া বাঁশ পেয়ারা পাতায়
বাগান গাছের তলা রাস্তায় বিশাল স্তর জমে আছে।
হাঁটতে পায়ের চাঁড়ে পাতা ভেঙ্গে মচমচ শব্দে
গায়ে শিহরণ জাগছে।
বাড়ির লোকেরা টাবা ছালা চাঙ্গারি দিয়ে
পাতার পাহাড় গড়ে তুলছে।
গরীব মানুষেরা রাস্তায় পড়ে থাকা পাতা
এনে সারা বৎসর রান্নার জন্য জমা রাখছে।
দক্ষিণা বাতাসে গরমে আরাম করে দিচ্ছে শরীর।
উঠানে গোলাপের গাছটাতে হাজার হাজার কলি
ফুল ফুটে বসন্তের হাওয়ায় দোল খাচ্ছে।
কোকিলের কুহু কুহু ডাকে মানব শিল্পীদের
গানের সুর শিখাচ্ছে।
আহারে বসন্ত!
আমি যদি এমন নিষ্পাপ হতে পারতাম!
যেমন জোনাকিরা মিটমিট করে
ঝোঁপেঝাড়ে অন্ধকারে আলো ছড়ায়।
বসন্তে এক পশলা বৃষ্টি।
বসন্তে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল।
ঘরের দাঁড়িতে শুকাতে দেয়া লাল মরিচ।
আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেঁয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি আকাশে মেঘ হয়ে জমিনে বৃষ্টি নামবে। দক্ষিণা বাতাস কিছুক্ষণ থেমে থেকে উত্তরের বাতস বয়ে জোরে তুফান আসবে। মাঠের গুরু ছাগলের খোটা কৃষাণেরা ছুটে এসে তুলে দিবে। এই বছরের বসন্ত আকাশের এই প্রথম কালো মেঘ।
গৃহবধু বৃষ্টির আগের পাতা সংগ্রহ করছে।
গাছে ঘুঘু পাখি ডাকে। কখনো নিচের রাস্তার নেমে আধার খায়। রাস্তার পাশে আবার কেউ পাতা ঝাঁড়ু দেয়।
গাছের বড়ই প্রায় শেষ। খুব অল্প গাছেই শেষ কিছু বড়ই অবশিষ্ট আছে। রাস্তার পাশে এই গাছটির মধ্যে হয়তো কিছু ছিল। পথের মানুষেরা তাই সেগুলো পেড়ে নিচ্ছে অনন্দ মনে। একজন দেখছি গাছে উঠে ঝাঁকি দিচ্ছে, বাকীরা তা লুফে নিচ্ছে। সম্ভবত সবাই কুড়ানো বড়ইগুলো গাছে থাকা লোকটা নামলে ভাগ করে মজা করেই খাবে।
বাড়ীর পাশের লেবু বাগানের পাশে ফুটেছে বাইট ফুল। বইয়ের ভাষায় কি নাম আমার জানা নাই।
আর এই হল-রাতের লেবু বাগান। লেবুর বাহারী সময় শেষ। এখন উবাহরী লেবু ধরতে গাছে লেবু ফুল ফুটেছে।
কাঁঠাল গাছে কাঠালের বোচা ধরেছে। আর কিছুদিন গেলেই আমাদের দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের প্রকৃত স্বাদে প্রকৃত আমেজে খেতে পারব।
বসন্তের অনন্য একটি উপাদান আমের মুকুল। আম গাছে গাছে মুকুল ধরেছে। মৌ মৌ গন্ধে প্রকৃতি যেন সেজে আছে। গাছে ঝিঝি পোকারা ডাকে। পরিবেশ ভারী হয়ে আছে কত দিন ধরে।
একদিন কবি বলেছিলেন -
লোডশেডিংয়ে ডুবে থাকা আকাশে ওঠাবো
এক কোটি ত্রিশ লক্ষ সাহসী যুবক চাঁদ ।
ঘুম আর জাগরনের মধ্যবর্তী নিঃশ্বাস গুলো জমিয়ে
বিপ্লবের হালচাষ হবে ইতিহাসের মাথা কাটা জমিনে ।
আজ কবি বলেন-
মশা মাছির আদর্শ নিয়ে আর কতকাল বেঁচে থাকা !
নেকড়েরা দখল নিয়েছে জীবনের মধুর ফুটপাথ
পিঁপড়ারা দখল নিয়েছে দাবী আদায়ের মিছিল
মুক্ত বাতাস দখল নিয়েছে বখাটে শকুনের দল ।
পৃথিবীর সব বিপ্লবীরা হয়ত একদিন ধ্যানমগ্ন মাছরাঙা হয়
চোখের সামনে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে সন্ত্রাসী ঝিঁঝিঁ পোকা।
রাস্তার পাশে ঝোঁপে ঝাড়ে জোনাকী পেকারা রাতের অন্ধকারে আলো দিয়ে যায়। রাতের আঁধারে এমন মিটমিট আলো বসন্তেই দেখা যায়।
ও জোনাকী, কী সুখে ওই ডানা দুটি মেলেছ!
আঁধার সাঁঝে বনের মাঝে উল্লাসে প্রাণ ঢেলেছ।
তুমি নও তো সূর্য, নও তো চন্দ্র, তোমার তাই বলে কি কম আনন্দ?
তুমি আপন জীবন পূর্ণ করে আপন আলো জ্বেলেছ!
তোমার যা আছে তা তোমার আছে, তুমি নও গো ঋণী কারো কাছে। তোমার অন্তরে যে শক্তি আছে তারি আদেশ মেলেছ।
তুমি আঁধার-বাঁধন ছাড়িয়ে ওঠ, তুমি ছোটো হয়ে নও গো ছোটো,
জগতে যেথায় যত আলো সবায় আপন ক’রে ফেলেছ।।
বসন্তে কোকিল ডাকে। আজই প্রায় সন্ধ্যায় শুনলাম এ বছরের প্রথম কোকিলের ডাক। ফাল্গুণ আর চৈত্র দুইমাস মিলে বসন্তকাল। ফাল্গুণ এসেছে কয়েক দিন হল। তাই মনে হচ্ছে বসন্তের এখন কিশোর বয়স। বাংলাদেশের ঋতুরাজ বসন্তের মন দোলানো আবহাওয়া সকলকে পাগল করে। আমাকেও করে। বসন্তের কিছু ফুল নিয়ে অনুভূতির বসন্তকে শেয়ার করতে চাই!
পলাশ ফুল ফুটেছে। পাতাহীন গাছের প্রায় লেংটো ডালের যত্রতত্র ফুটতে দেখেছি পলাশকে।
কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে। এই গাছ চমৎকার পত্র-পল্লব এবং আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল, কমলা, হলুদ ফুল এবং উজ্জল সবুজ পাতা একে অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। কৃষ্ণচূড়া মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রঝরা বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়।
বসন্তের একটি ফুল চেরী।
কাঞ্চন ফুল।
কনক চাঁপা ।
বকুল। বাংলায় বকুল ফুলের জন্যে পরিচিত এই গাছ। বকুলের অন্যান্য ব্যবহার বাংলায় তেমন নেই। এটি একটি অতি পরিচিত ফুল। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় এর গাছ পাওয়া যায়। দেখতে ছোট ছোট তারার মতো ফুল গুলো যখন ফোটে তখন গাছের চেহারা হয় অন্যরকম। এবং মাটি যখন ঝড়ে পরে তার দৃশ্য নয়নাভিরাম। বকুল ছোট তারার মত হলুদাভ সাদা বা ক্রীম রঙের হয়। এই ফুল রাত্রে ফোটে এবং সারাদিন ধরে টুপটাপ ঝরতে থাকে। ভারি সুগন্ধী এই বকুল। শুকনো বকুল ফুলের সুগন্ধটা অনেকদিন থাকে তাই এই ফুলের মালা অনেকদিন ঘরে রেখে দেয়া যায়। ফুলে থাকে উদ্বায়ী তেল।
আসুন না বসন্তকে কাজে লাগিয়ে নিজে শিখি। অন্যকে শিখতে সাহায্য করি। বসন্তের স্নিগ্ধতায়, সরলতায়, সজীবতায়, সত্যতায়।
------------------------------
ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড : বসন্তের প্রকৃত রূপ, বসন্ত,বসন্তের শিক্ষা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন