আমার বয়স খুব বেশি না হলেও একেবারে কম হয় নি। আমার জীবনে সরকার
বিরোধীদলদের ভয়ে হরতাল দিতে পারে, এমন নজির ১২ মার্চই দেখলাম! গ্রীনিচ বুকে
হয় তো ইতিমধ্যে এই রেকর্ড লিখা হয়ে গেছে!

অনেক দিন ধরেই জানা ছিল ১২ মার্চ ঢাকায় চারদল এবং সমমনা দলগুলোর একটা বিশাল সমাবেশ হবে। সেই অনুযায়ী বিরোধী দলগুলো তাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কথায় আছে, চোরের মন পুলিশ পুলিশ। তাই সরকার নিজে জানে যে, নিজের অপকর্ম, দোষ, তলে কাঁচা, গুন্ডামী-মাস্তানী-বাকশালী-সৈরাচারী চরিত্র ইত্যাদি কতটুকু নিচে নেমেছে।
গ্রামের কয়েকটা শিশু সরকারী হরতালকে নিয়ে যা বলছে। আমি মনোযোগ দিয়ে শুধু শুনছিলাম। শিশুদের মুখের কথাগুলোয় শুধু রাগ, আর অসহায়ত্ব খুঁজে পেলাম। তাদের কথায় আশার বাণী কিছু পেলাম না, যেন তারা নিরুপায়! তবে তাদের কথাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার কিছু থাকতে পারে!
১ম জন-আজ সরকারী হরতাল। কিন্তু হরতাল তো বিরোধী দল দেয়? কিন্তু সরকরী হরতাল তো কোন দিন হুনিনাই!
২য় জন-ক্ষমতায় থেকেও সরকারের মনে হয় ক্ষমতা নাই। বিরোধীদল থেকে তাদের দাবী
আদায়ের জন্য আজ হরতাল ডাকছে। জনগণরে সরকার ডরায়। আর জনগণ সরকারকে বালা কয়
না। আওয়ামিলীগের কোন কামই জনগণের কাছে ভাল না। জনগণের জন্যও কিছু করে না।
৩য় জন-এত বড় জনসভা! অথচ টিভিতে খালি বোটকারে দেখা যায়। এই কালিরে আর দেখতে ভাললাগে না। টিভি বন্ধ করে দিয়েছি তাই।
১ম জন-হাসিনায় ডরাইছে। কোন্ডাই জানি ঢাকা ছাইরা মিটিং করতে গেছে। ঢাকায় এত
এত মানুষ যাইব। যদি মারে, এই ডরেই ভাগছে! আর সাহারা মরুভূমিরে ঢাকায় রাইখা
গেছে। তাই টিভিত খালি এই কালিরে দেখায়। রস নাই কস নাই। খালি এই গুন্ডারে
দেখায় কেন্?
২য় জন-রাস্তায় রাস্তায় আওয়ামী গুন্ডা গ দিয়া বাধা দিতাছে। তল্লাসী করতাছে। তারপরও দেখি মানুষ হাইট্টা হাইট্টাই যাইতাছে।
৩য় জন-সব খবরে খালি আওয়ামীলীগের কথা কয়। হাছা কথা একটা খবরেও কয় না।
রেডিওতে খবর কইব, তাও মিছা। এই মিছা কথা কয় যেগুলা, হেগুলানরে চাকরি দিছে
কেডা? মনে হয় হাসিনায়অই দিছে। খালি হাসিনারে নিয়াই খবর, দেশে কি আর কিছু
নাই?
১ম জন-কাপাসিয়া নাকি ৮জনকে কুপাইয়া মারছে। আরো অনেক আহত। আমার মনে হয় সারা
বাংলাদেশেই এমন কইরা মানুষ মারছে। কিন্তু কোন খবরেতো দেখলাম না!
৩য় জন-হাসিনায় একটা পেত্নি, ডাকাত। ক্ষমতায় আইসাই সেনাবাহিনীর মানুষ মাইরা
বিরোধিদলকে দোষে। বিডিআর মাইরা বিরোধিদের দোষে। আর খালি জামাতের লগে
লাইগাই আছে। জামাত তারে কি করছে? কামরাইছে? তো তার এত জ্বলে কেন? বেলাজা,
বেশরমা মহিলাও একটা। শয়তানের আড্ডি।
২য় জন-হ হেয় একটা রাক্ষুসী শয়তান। দেহছ না, সিমানায় মানুষ মারে, ভারতরে
কিছু কয় না। ভারতরে সব দিয়া দিতাছে। আর খালি শিবিরের উপর যত কামরানি দেখায়।
হারা জীবনেও জামাতের কোন দোষ পাইলনা তাও তাদেরকে জেলে বন্দি কইরা রাখছে।
কত কষ্ট কইরা নামাজ পড়ে। অযুর পানিও নাকি দেয় না এই শয়তানে। ভোটের সময়
দেখি-মাথায় কালো নেকাব পড়ে। আর এখন সেটা কই? নিজে মরত না একদিন? মরার পরে
বুঝব!

১ম জন-হেরে মাইনসে ভোট দিছে? হেয় ভারতের সাথে গোপনে হাত কইরা ক্ষমতায় আইয়াই দেশে আকাম-কুকাম করা শুরু করছে।
৩য় জন-দেখস না, ১২টার আগেই বিদ্যুৎ বন্ধ কইরা দিল। জনগণ যাতে সমাবেশ দেখতে
না পারে সেই জন্য সব কিছু বন্ধ কইরা দিছে। সারা ঢাকায় পুলিশ রেব বিডিআর
সবাইকে বিরোধীদলরে মারার জন্য প্রস্তুত রাখছে। আবার হুনলাম, ইন্টারনেটেও
নাকি দেখার কি বন্ধ কইরা দিছে!
২য় জন-যা কিছু হইতাছে সব কিছুই হাসিনার দোষ। হেয় ক্ষমতায়, তাই তারই সব দোষ
হবে। তার ক্ষমতার সময় দেশে কত হাজার হাজার লোক মারতাছে, মরতাছে, গুম
করতাছে। মানুষ ধইরা নিয়া যাইতাছে। কই যে নিয়া যায়, তার কোন খবর নাই। নিজের
লোকেরা তদন্ত করে। নিজেগ পালা খুনি দেইখা তাদের নাম বলে না। নিজেরা চুপ
কইরা থাকে। যাদেরকে ধইরা নিয়া যায়, মনে হয় এগুলোকেও মাইরা লায়। যারা মানুষ
মারে তারাও হেমনেই মরে। তার বাবারে মারছে এল্লেইগাই। তারেও মাইনসে মারব।
জনগণ হাসিনার উপর অনেক রাগ অইয়া রইছে। জনগণের সরকার হইয়া জনগণের লগে
শত্রুতামী করতাছে। সময় হইলেই জনগণ আবার তাদের লগি-বৈঠা, লাঠিয়াল বাহিনীর মত
হাতে লাঠি লইয়া তাদেরকে দৌড়ানি দিব।
১ম জন-মনে হয় উলুর গায়ে পাখনা গজাইছে। এই জন্য মরার আগে এত লড়তাছে!
যাক। এগুলো বাচ্চা পোলাপানের ক্যাঁচাল। পোলাপাইন তো, এরা আর কত বুঝে? পোলাপানের কথা বলে লাভ নেই। আমরাই বা বুড়ারা কত বুঝি? অথচ রাজনীতি করতে করতে নিজেদের ঘর-দুয়ার-ব্যাংক-বাড়ী-সিন্দুক ভরে লয়। আর জনগণের কোনই উপকারে আসে না। নিজেরা ছাড়া আর সবাই পর। তাই তাদের সাথে হিংসাত্বক আচরণ করে। আমি যা বুঝাতে চাচ্ছি-

সরকার কেন বিরোধীদল ভয় পায়????
সরকার জনগণ, বিরোধীদল ভয় পাওয়ার সমূহ কারণ রয়েছে। তার মধ্যে প্রথম কারণটা ছাত্রশিবির। দ্বিতীয় কারণ, জনগণ আদর্শভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করে। ছাত্রশিবিরের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে দলে যেভাবে শিবিরের দিকে ছাত্র সমাজ ঝুঁকে পড়েছে। তাতে শয়তানী বদমাসী শক্তিরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে গেছে। ছাত্র শিবির আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি করে। আর সরকারী হাম্বা ছাত্র... লীগরা করে শয়তানী, মস্তানী, গুন্ডামী, ভন্ডামী, নস্টামী, ইতরামী, খামচানীর রাজনীতি। নিজেদের চরিত্র যে আমছাত্রসমাজ চায় না সেটা তারা ভাল করেই বুঝতে পারছে।


আমিও চেষ্টা করেছি ছন্দে কিছুটা প্রকাশ করার-
----------------১--------------------
রাজনীতি মারমুখি; জনতার ভয়
মানুষ হয়েছি; কেন কেউ কারো নয়?
জনদরদী নেতার কেন মিছে অভিনয়
খুনিদের ক্ষমা দৌড় খেলা খেলা হয়!
সত্য আলোয় ধরা হোক আলোময়
মুমিন মুমিন ভাই ভাই পরিচয়।
বসন্ত ছুঁয়ে যাক সবার হৃদয়
এভাবে হবেই হোক সত্য বিজয়!
-------------------২-------------------------
যাঁর করুণায় রাজ্য পেল, তাতেই আস্থা নাই
জেলের ঘরে মাজলুম শুধুই আল্লাহ আল্লাহ গাই।
নিরিহ মেরে নষ্ট বড়াই কাঁদে না তোর মন
পোড়া কপাল; নইলে কেন রত্নে জ্বালাতন?
সত্য নেতার বন্ধু দেশের সুন্দর পরিবেশ
স্বার্থ পাগল নষ্ট ন্যাতার ধ্বংশায় সবি শেষ।
এই ক্ষমতা পাই না যদি আবার পুনরায়!
লুন্ঠন, হত্যায় কাড়িছি সব; কি বা আসে-যায়?
লাঞ্চিত বঞ্চিত জনতা করছে বহিষ্কার
কপট শাসন তিরষ্কৃত পাগলা নিজ বিচার।
পুলিশ লাঠিয়ালের অত্যাচারে
যতই জাগাও ভয়
মনে রেখ এদের পতনেই সত্য
ইসলাম কায়েম হয়!
------------------
------------------
আগের লেখা-
সোনাব্লগে এসে যে ব্লগারদের চঞ্চলতা অনুভব করি!!!
অনেক দিন ধরেই জানা ছিল ১২ মার্চ ঢাকায় চারদল এবং সমমনা দলগুলোর একটা বিশাল সমাবেশ হবে। সেই অনুযায়ী বিরোধী দলগুলো তাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কথায় আছে, চোরের মন পুলিশ পুলিশ। তাই সরকার নিজে জানে যে, নিজের অপকর্ম, দোষ, তলে কাঁচা, গুন্ডামী-মাস্তানী-বাকশালী-সৈরাচারী চরিত্র ইত্যাদি কতটুকু নিচে নেমেছে।
গ্রামের কয়েকটা শিশু সরকারী হরতালকে নিয়ে যা বলছে। আমি মনোযোগ দিয়ে শুধু শুনছিলাম। শিশুদের মুখের কথাগুলোয় শুধু রাগ, আর অসহায়ত্ব খুঁজে পেলাম। তাদের কথায় আশার বাণী কিছু পেলাম না, যেন তারা নিরুপায়! তবে তাদের কথাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার কিছু থাকতে পারে!
যাক। এগুলো বাচ্চা পোলাপানের ক্যাঁচাল। পোলাপাইন তো, এরা আর কত বুঝে? পোলাপানের কথা বলে লাভ নেই। আমরাই বা বুড়ারা কত বুঝি? অথচ রাজনীতি করতে করতে নিজেদের ঘর-দুয়ার-ব্যাংক-বাড়ী-সিন্দুক ভরে লয়। আর জনগণের কোনই উপকারে আসে না। নিজেরা ছাড়া আর সবাই পর। তাই তাদের সাথে হিংসাত্বক আচরণ করে। আমি যা বুঝাতে চাচ্ছি-
সরকার কেন বিরোধীদল ভয় পায়????
সরকার জনগণ, বিরোধীদল ভয় পাওয়ার সমূহ কারণ রয়েছে। তার মধ্যে প্রথম কারণটা ছাত্রশিবির। দ্বিতীয় কারণ, জনগণ আদর্শভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করে। ছাত্রশিবিরের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে দলে যেভাবে শিবিরের দিকে ছাত্র সমাজ ঝুঁকে পড়েছে। তাতে শয়তানী বদমাসী শক্তিরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে গেছে। ছাত্র শিবির আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি করে। আর সরকারী হাম্বা ছাত্র... লীগরা করে শয়তানী, মস্তানী, গুন্ডামী, ভন্ডামী, নস্টামী, ইতরামী, খামচানীর রাজনীতি। নিজেদের চরিত্র যে আমছাত্রসমাজ চায় না সেটা তারা ভাল করেই বুঝতে পারছে।
আমিও চেষ্টা করেছি ছন্দে কিছুটা প্রকাশ করার-
----------------১--------------------
রাজনীতি মারমুখি; জনতার ভয়
মানুষ হয়েছি; কেন কেউ কারো নয়?
জনদরদী নেতার কেন মিছে অভিনয়
খুনিদের ক্ষমা দৌড় খেলা খেলা হয়!
সত্য আলোয় ধরা হোক আলোময়
মুমিন মুমিন ভাই ভাই পরিচয়।
বসন্ত ছুঁয়ে যাক সবার হৃদয়
এভাবে হবেই হোক সত্য বিজয়!
-------------------২-------------------------
যাঁর করুণায় রাজ্য পেল, তাতেই আস্থা নাই
জেলের ঘরে মাজলুম শুধুই আল্লাহ আল্লাহ গাই।
নিরিহ মেরে নষ্ট বড়াই কাঁদে না তোর মন
পোড়া কপাল; নইলে কেন রত্নে জ্বালাতন?
সত্য নেতার বন্ধু দেশের সুন্দর পরিবেশ
স্বার্থ পাগল নষ্ট ন্যাতার ধ্বংশায় সবি শেষ।
এই ক্ষমতা পাই না যদি আবার পুনরায়!
লুন্ঠন, হত্যায় কাড়িছি সব; কি বা আসে-যায়?
লাঞ্চিত বঞ্চিত জনতা করছে বহিষ্কার
কপট শাসন তিরষ্কৃত পাগলা নিজ বিচার।
পুলিশ লাঠিয়ালের অত্যাচারে
যতই জাগাও ভয়
মনে রেখ এদের পতনেই সত্য
ইসলাম কায়েম হয়!
------------------
আগের লেখা-
সোনাব্লগে এসে যে ব্লগারদের চঞ্চলতা অনুভব করি!!!
ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড : সরকারী হরতাল, ১২ মার্চ ২০১২, হিংসার রাজনীতি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন