সোমবার, ৮ জুলাই, ২০১৩

কিছু বুঝ আমার জীবন সাজায়...

এভাবেই মসজিদে বসে বসে জোরে জোরে কুরআন তেলাওয়াত করছিল এক আগন্তুক। শুক্রবার জুম্মার আযান হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। ইতিমধ্যে অনেক মুসল্লী সুন্নত নামাজ পড়া শুরু করেছে। আমিও পড়ছি। আমি আমাদের এলাকার মসজিদের কথা বলছি। লোকটাকে আমি চিনি না। কয়েকবার বললাম তাকে যে, এভাবে জোরে পড়লে যারা নামাজ পড়ছে তাদের কষ্ট হয়। তাদের নামাজে ভুল হলে আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে। তাছাড়া আপনারওতো নামাজ পড়তে হবে। সুতরাং তেলাওয়াত আস্তে করেন, নয় তো বন্ধ করে দেন।

লোকটা আমার দিকে বড় চোখে চেয়ে থাকল অনেক ক্ষণ। আমি ভাবলাম, চুপ থাকাটাই ভাল হবে। বারবার মুসল্লিরা নামাজের ফাঁকে ফাঁকে ব্যক্তিটির দিকে চেয়ে চেয়ে দেখছে। কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। তবে সবাই বোধহয় আমার মত ভেবেই চুপ থেকেছে। লোকটাকে আমি স্বাভবিক ভাবিনি। তাই চুপিসারে ছবিটি তুলেছি। হয় তো এখানে কারো জন্য শিক্ষা হতে পারে! দেখছেন না, কিভাবে বসে মহান আল্লাহর কুরআনের সম্মান দেখাচ্ছে???

শিক্ষাঃ আমি তেলাওয়াত করছি সওয়াবের জন্য। কিন্তু আমার তেলাওয়াত যদি হয় মানুষকে দেখানোর জন্য, আমার সুর প্রদর্শনের জন্য, আমার পারগতা প্রদর্শনের জন্য এগুলো আমার জীবনের জন্য বড় ক্ষতিকর।



শিয়ালী খাল পাড় হব। কিন্তু বাঁশের উপর দিয়ে নাকি নিচের মাটি দিয়ে হেঁটে! অনেক দিন বাঁশ দিয়ে খাল পাড় হই না। ইচ্ছা থাকলেও নিচ দিয়েই খাল পাড় হলাম কেউ কিছু মনে করতে পারে বলে। কিন্তু বাঁশ দিয়ে হাঁটতে না পারার আফসোসটা রয়েই গেল। আর সেখান দিয়ে আবার যাওয়ার উদ্বিপনাও।



সকালের শান্ত সূর্যের ছবি উঠানোর চেষ্টা করলাম। কয়েকটা ছবি উঠাতে গিয়ে বুঝলাম, সকালের সূর্যটা শান্ত দেখালেও আসলে সে শান্ত নয়। আমি একবারও সূর্যের অসল চেহারা তুলতে পারলাম না। বারবারই সূর্যের পাশে একটা ইফেক্ট যোগ হয়ে যাচ্ছে। আর চারদিকটা অন্ধকার দেখাচ্ছে। এর থেকে বুঝলাম-আমার ক্যামেরায় সূর্যের ছবি তোলা সম্ভব নয়। অথবা কৃত্রিম কোন ক্যামেরায় সূর্যের ছবি তোলা সম্ভব নয়। তাই হয় তো ক্যামেরাকে সূর্যটা ছবি তুলতে দিচ্ছে না।



কাজের ব্যস্ততা সকল মন্দ থেকে ফিরিয়ে রাখতে সহায়ক। একটু জিরিয়ে নিলে কাজের গতি বাড়ে। বিকাল বেলা। শিশুদের সাথে মজার সময় কাটানোতে শরীর মন সবই তাজা। শিশুদের নিয়ে এভাবে খেলা করার মাঝে শিশুদের কাজের গতি, পড়ার গতিতে ইমেজ আসে। সাথে আমারও। আমি বড় তবুও আমার মাঝে সজীবতা কাজ করে। আর শিশুদের তো কথাই নেই! এমন অনুভূতিই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষার আধার।



ছেলেগুলো দল বেঁধে এভাবে নদী পথে চলে আসা ট্রলারের জন্য সাঁতরাচ্ছে। এমনিভাবে ট্রলারে উঠে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। বাহ, কি যে আনন্দ!


বসন্তকাল চলছে। সামনে চৈত্রের খড়তার বাতাস অনুভব করছি ক'দিন থেকেই। নদীতে বেড়াতে গেলে বুঝি ভাললাগা কারে কয়। আরো ভাল লাগে যখন দেখি দলে দলে নদী পাড়ের ছেলেরা নদীতে গোছল করে। কাছে নদী নাই বলে পানিতে ডুবিয়ে দু'চোখ লাল করা পর্যন্ত ডুবানোর আনন্দ উপভোগ করতে পারি না। তবুও একটু সাঁতরিয়ে দেখতাম যদি আমার মত উদ্যমি কেউ থাকতো!


বসন্তের রোদ বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে মনে হচ্ছে। আমরা মাঝির অপেক্ষায় আছি। লোক হয় নি বলে মাঝিটা নদী-ঘাটের ছাঁয়ায় একটু জিরিয়ে নিচ্ছে। দেখছি আরও একজন আসছে আমাদের মত ওপাড়ে যাবে। কিন্তু মাঝি বেচারা এখনও আসছে না। রোদের তাপ আর সময়ের অপচয় হলেও বেশ ভালই লাগছে শরীর জুড়ানো নদীর বাতাসে খেয়ায় বসে থাকতে। শরীরকে আরো ইমেজ এনে দিচ্ছে মনে হচ্ছে। অনেক দিন পর এভাবে নদীর উপর নৌকায় বসে থাকতে ভাল লাগছে। হাজারো কাজের ফাঁকে এমন অবসর কাজের প্রতি আরো উদ্যমি হতে সাহায্য করতে পারে।



হঠাৎ কোথাও লেগে একটি ফুল ছিড়ে মাটিতে পড়ে গেল। একজন ফুল তুলছে, আর একজন প্রফুল্লচিত্তে হাসছে। আহারে! অন্যের দুঃখ না বুঝে কত উৎসাহেই না হাসছে ছোট্ট অবুঝ মেয়েটা!

একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মানার্থে ফুল হাতে নিয়ে যাচ্ছিল স্কুলের দিকে। এভাবে যদিও শহীদদের প্রতি সত্যিকারার্থে সম্মান দেখানো নাও হয়; তথাপিও তারা তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যই যাচ্ছে। এ কাজের মাধ্যমে শিশুরা একটা নিয়ম পালনে উৎসাহি হতে শিখে।




বাঁশের সাপোর্টে দাঁড়িয়ে থাকা কুটার পাড়া। শক্ত পালায় (ভীত) এটাকে দাঁড় করানো হলে এভাবে খুঁটি দেয়ার দরকার ছিল না। এটাকে একটা উদাহরণের জন্য টানলামঃ

আমি কিছুটা আনস্মার্ট। তাই আমাকে জীবনের জন্য আনস্মার্ট কাউকে বেঁছে নিতে হবে। নয় তো আমাকে আরো স্মার্ট হতে হবে। কি করে স্মার্ট হওয়া যায়?

আমি পেন্ট পড়ি। সুস্থ্য ভাষায় কথা বলি। সার্ট পড়ি। আমি কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। আমার স্বাধারণ একটা জব আর শান্ত ওয়েট। মুসলিম বলে কুরআন বিশ্বাস করি, সেই অনুযায়ী আমল করার চেষ্টা করি। রাজ পোষাক পাঞ্জাবীও আমি পড়ি। কুরআন হাদিসের অধ্যয়নও আমার দ্বারা হয়। আমি হয় তো বুঝেছি, আমার স্মার্টনেসের গোমর কোথায়!

তবুও আমি আনস্মার্টই রয়ে গেলাম সময়ের আধুনিকতায়। যে দূর্বলতা আমাকে আনস্মার্ট করে রেখেছে-অযথা ঘুরাঘুরি করি না, দুই আঙ্গুলের ফাঁকে মুড নেয়ার ভঙ্গিতে সিগারেট টানি না, মনের পোড়া জ্বালা নিবারনের জন্য জীবন বরবাদ করা মদ-গাঞ্জার নেশা করি না, মুখ লাল করে পান-চুন খাই না, কাউকে ক্ষমতা দেখানোর জন্য অভদ্র ভাষায় গালাগাল দেই না, অরুচিকর কথা বলি না, শক্তির বড়াই প্রদর্শনের জন্য সাথে বুলেট বোমার সহযোগিতা নেই না, শরমহীন মেয়েদের সাথে আড্ডাই না... সেই জন্য বোধহয় আমার ভালবাসার অভিজ্ঞতা আজও হয়ে উঠেনি। মনে করে থাকতে পারে যে, আমার মত এমন জীবন সঙ্গীর দ্বারা তাদের জীবনকে মধুময় করার জন্য যথেষ্ট হবে না। তাই বুঝি কম বয়সী/কম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন/ কম শিক্ষিত মেয়েরা আমার ক্ষেত্রে এমন চিন্তা করে। আমি চিন্তিত না হলেও এমনটাই আমাকে উপলব্ধি করতে হয়। এমন অনুভূতি ছোট্ট শিক্ষিতদের স্বাভাবিক ইচ্ছা। কিন্তু আমিও যে এদের ক্ষপ্পরকে পছন্দতে না সূচক; তাও আমার কবিতায় জানিয়েছি-



তুমি এক বড় বাপের বড়সর কন্যা
তাই বুঝি বহে সদা স্বপ্নের বন্যা!
ভেবেছ তুমি তাই দেই তবে ধন্যা
জি না! জান না তুমি, আমি এমন না!

ভালবাসা বিনিময়, কিছু ক্ষণ প্রেমময়
বিয়ে করব আর সাজাতে জীবন
চেংড়ী বেটি; তাই উতাল-পাথাল তুমি
ঘর-দুর, সংসারে থাকবে না মন।

মানসিক, শারীরিকভাবে হয়নি বয়স
কথায়, চালচলনে তাই জ্ঞান-হুঁশ ধস।
ভেবেছ বিয়ের পর ঠিক হবে সব
আমি জানি, পুরাতনে টানে অভিনব।

পড়া-লেখা কর; যদি মনে জাগে প্রেম,
জীবন সাজাবে? সেটা লম্বা সে জ্যাম!
সেই ভাল, তুমি খেল তোমার যত খেল
বুদ্ধি লাগলে দিবে ব্লগার আঁতেল!


বন্ধুগণ! এমন আরো হাজারো অনুভূতি আছে, যা চিন্তা করে, যা থেকে জ্ঞান আহরণ করে, অভিজ্ঞতা অর্জন করে অবশিষ্ট জীবনে কাজে লাগিয়ে নিজের জীবনকে আরো সুন্দর করে সাজানো যায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন