বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

গরু ছাগলকেও আল্লাহ কেয়ামতের দিন মাফ দিবেন না। বড় শিংওয়ালা কোন গরু যদি শিংহীন কোন গরুকে দুনিয়াতে গুতো দেয়, অত্যাচার করে, কষ্ট দেয় তবে কেয়ামতের দিন আল্লাহ শিংহীন সেই গরুকে শিং দিয়ে বলবেন এবার তুমি তাকে গুতো দাও, দুনিয়াতে সে তোমাকে যত গুতো দিয়েছিল! এবার তুমি তার প্রতিশোধ নাও! যেহেতু আল্লাহ ন্যায় বিচারক, তাই আল্লাহ এমন কাজটা করবেন।

#গরু_ছাগলকেও_আল্লাহ #কেয়ামতের_দিন_মাফ_দিবেন_না!
বড় শিংওয়ালা কোনো গরু যদি শিংহীন কোন গরুকে অথবা বড় দেহের কোন ছাগল যদি ছোট দেহের কোনো ছাগলকে দুনিয়াতে গুতো দেয়, অত্যাচার করে, কষ্ট দেয় তবে কেয়ামতের দিন আল্লাহ শিংহীন সেই গরুকে শিং দিয়ে বলবেন এবার তুমি তাকে গুতো দাও, দুনিয়াতে সে তোমাকে যতো গুতো দিয়েছিল! এবার তুমি তার প্রতিশোধ নাও! যেহেতু #আল্লাহ_ন্যায়_বিচারক,
তাই আল্লাহ এমন কাজটা করবেন।

একটা বিবেকহীন নিরীহ বোবাজাত ছাগল যদি জুলুম করে ক্ষমা না পায় তবে আপনি আমি কীভাবে বিচার ছাড়াই ক্ষমা পেয়ে যাবো ভাবতে পারি! কেউ যদি কাউকে সম্পদের জন্য, কেউ কাউকে টাকার জন্য, কেউ কারও থেকে লাভবান হওয়ার জন্য, কারও থেকে কেউ সম্মান পাওয়ার জন্য, কেউ কারও থেকে ক্ষমতাবান হওয়ার জন্য জুলুম করে? আর যদি আন্তর্যাতিক মানের মর্যাদাবান ব্যক্তির সাথে কেউ জুলুম করে অনর্থক কষ্ট দেয় তবে কি সে ক্ষমা পেয়ে যাবে? কেউ যদি পুরো দেশের মানুষের সাথে জুলুম করে? কেউ যদি অনেক অনেক মানুষের হক মেরে খায়???? 

যার জুলুম যতো বড়, তার হিসাব ততো সুক্ষ্ম হবে। ততো সময় নিয়ে বিচার হবে। কেয়ামতের মাঠ বড় ভয়ংকর হবে। যে ব্যক্তি যতো বেশি খারাপ কাজ করবে তার ততো বেশি ঝামেলা থাকবে। ততো বেশি আলোচিত হবে। ততো বেশি শাস্তি হবে। যার যতো বড় শাস্তি হবে কেয়ামত এর দিন তার বডিটাও আল্লাহ সেই মানের শক্ত, সেই মানের শাস্তি গ্রহণের উপযুক্ত করে দিবেন যাতে করে শাস্তি উপভোগ করা যায়। কারণ, ছোট্ট শরীরে অতো বেশি শাস্তির লোড নিবে না। দুনিয়ায় মৃত্যুর পর কেয়ামত এ আবার জীবন পাবে। তারপর আর কখনও মৃত্যু হবে না। সুখের বাসী সুখেই অনন্তকাল কাটাবে। আর দুঃখ যাদের কপালে, অনন্তকাল দুঃখের মাঝেই তাদের সময় কাটাতে হবে। এই খবরগুলো আমরা দুনিয়াতেই পেয়েছি। কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। দুনিয়াতেই যেভাবে অপরাধীর অডিও ক্লিপ, ভিডিও ফুটেজ, ছবি, স্ক্রিনশট, সিসি টিভি রেকর্ড ইত্যাদি থাকে; পরকালে আল্লাহ চারিদিকের দৃশ্য দেখানো যায় এমন কিছু প্রকাশ করতে পারেন। আল্লাহ এমন কিছু দেখাতে পারেন যার দ্বারা প্রত্যেকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব রেকর্ড প্রকাশ করবেন। এসব জেনে, শুনে, বুঝে যদি আমরা চিরসুখের জান্নাতে যেতে না পারি, তবে এর চেয়ে বড় কপালপোড়া আর নাই 😥

আল্লাহ, কুরআন বিশ্বাস হলে এক্ষুণি প্রস্তুতি নেওয়া উচিৎ। যে সময় পিছনে গেছে তা না ভেবে এখন থেকেই রেডি হতে থাকি। আল্লাহ ক্ষমাশীল। আল্লাহ বলেছেন, বান্দা যদি আল্লাহকে ডেকে ক্ষমা চায়, আল্লাহ বান্দাকে মাফ করে দেন এবং তাকে জান্নাত দেন। তাহলে আর দেরি কেনো? এক্ষুণি রেডি হই...
√ এখন থেকে যা করবো কুরআন হাদিস মতে চলার চেষ্টা করবো। 
√ এখন থেকে কাউকে ঠকাবো না।
√ এখন থেকে কারও সম্মান কাড়বো না!
√ এখন থেকে কারও জায়গার প্রতি, কারও পকেটের প্রতি  কারও সৌন্দর্যের প্রতি নজর দিবো না।
√ এখন থেকে দুর্বল কাউকে আঘাত করবো না।
√ এখন থেকে গোপনে কারও নামে কটু বাক্য প্রচার করবো না।
√ এখন থেকে মিথ্যা ভাউচারে সম্পদ আত্মসাৎ করবো না।
√ এখন থেকে সুদ ঘুষ দেয়া-নেওয়া বন্ধ করে দিবো।
√ এখন থেকেই সকলের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবো।
√ এখন থেকে সত্যের উপর চলার চেষ্টা করবো। 
√ এখন থেকেই অন্যের কষ্ট হয় এমন কিছু করবো না। কারও জন্য পারলে উপকার করবো, নয়তো চুপ থাকবো।
√ এখন থেকে কাউকে বকা দিবো না।
√ এখন থেকে সকলের সঙ্গে লেনদেনে স্বচ্ছ থাকবো।
√ এখন থেকেই মন যে কাজকে ভালো সায় দেয় তা করবো, যে কাজে মন সায় দেয় না তা করা থেকে বিরত থাকবো।

আমরা নিয়ত ভালো করবো। আমাদের নিয়তে আল্লাহ বরকত দিবেন। আমাদের উপর রহমত করবেন। পরকালে নাজাত দিবেন ইন শা আল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে থাকার তৌফিক দিন। আমিন!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন